দেশে সাক্ষরতার হার বেড়েছে

নিউজ ডেস্ক : এক বছরের ব্যবধানে দেশে সাক্ষরতার হার শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ পয়েন্ট বেড়ে ৭৪ দশমিক ৭০ শতাংশ হয়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সবশেষ জরিপে সাক্ষরতার এই হার উঠে এসেছে বলে রোববার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন।

গতবছর দেশে সাক্ষরতার হার ছিল ৭৩ দমমিক ৯০ শতাংশ। এবার তা বেড়ে ৭৪ দশমিক ৭০ শতাংশ হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারের ‘নিরলস প্রচেষ্টায়’ দেশে সাক্ষরতার হার বেড়ে এই পর্যায়ে এসেছে। ২০০৫ সালে তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় সাক্ষরতার হার ছিল ৫৩ দশমিক ৫০ শতাংশ।

আজকের সংবাদ সম্মেলনে ৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালনের তথ্য ও কর্মসূচি জানানো হয়।

এবারের সাক্ষরতা দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে- ‘কোভিড-১৯ সঙ্কট: সাক্ষরতা শিক্ষায় পরিবর্তনশীল শিখন-শেখানো কৌশল এবং শিক্ষাবিদদের ভূমিকা’।

গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জানান, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর আওতায় বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত প্রায় এক কোটি ৮০ লাখ নিরক্ষরকে সাক্ষরজ্ঞান দেওয়া হয়েছে।

‘সাক্ষরতা বিস্তারে এই অর্জনের জন্য বাংলাদেশ সরকার ইউনেস্কোর স্বীকৃতি স্বরূপ আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা পুরস্কার লাভ করে।’

এছাড়া মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের ২৫০টি উপজেলার ১৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সী ৪৫ লাখ নিরক্ষরকে সাক্ষরজ্ঞান দেয়া হচ্ছে বলে জানান জাকির।

তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রথম পর্যায়ে ১৩৪টি উপজেলায় শিখন কেন্দ্রের মাধ্যমে ২৩ লাখ ৫৯ হাজার ৪৪১ জন নিরক্ষরকে সাক্ষরতা প্রদান করা হয়েছে। মুজিববর্ষ উপলক্ষে আরও ২১ লাখ নিরক্ষরকে সাক্ষরতা প্রদান করার কার্যক্রম চলমান আছে।

দারিদ্র্য, অনগ্রসরতা, শিশুশ্রম, ভৌগলিক প্রতিবন্ধকতার কারণে এখনও অনেক শিশু বিদ্যালয়ের বাইরে রয়েছে জানিয়ে গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যবস্থায় এসব শিশুর প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য একটি প্রকল্পের (পিইডিপি-৪) আওতায় ৮-১৪ বছর বয়সী বিদ্যালয় বহির্ভূত ১০ লাখ শিশুকে উপানুষ্ঠানিক প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব আকরাম আল হোসেন, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মহাপরিচালক তপন কুমার ঘোষ ছাড়াও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *